Sunday, September 24, 2017
Banner Top
জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি গণজাগরণ মঞ্চের
Banner Content

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে এদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। তাই সংগঠটির কয়েকজন নেতার বিচার করলে হবে না রাষ্ট্রদ্রোহিতাকারী এই সংগঠনটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণজাগরণ মঞ্চ আয়োজিত ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার ও গণজাগরণ মঞ্চের ৬ দফা : আমরা কোথায়?’ শীর্ষক রাজপথ সংলাপে মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার এ দাবি জানান। এ সময় সংলাপে অংশ নেয়া বক্তারা জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের পাশাপাশি মঞ্চের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সংলাপে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ প্রমুখ। সংলাপ শেষে মঞ্চের নেতাকর্মীরা একটি পতাকা মিছিল বের করেন। মিছিলটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে গিয়ে শেষ হয়।
ইমরান এইচ সরকার বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াত সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা সশস্ত্রভাবে পাকিস্তানি সৈনিকদের সহায়তা করে। যা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তাই এদেশের মাটিতে রাজনীতি করার অধিকার তাদের নেই। তিনি ইমরান সরকার আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে নিশ্চিত করতে ট্রাইবুন্যালকে স্থায়ী করতে হবে যাতে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে বিচার বাধাগ্রস্ত না হয়। এছাড়া আমাদের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। অবিলম্বে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে জামায়াত-শিবিরের দোসররা সারাদেশে যে তা-বলীলা করেছিল তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এতে রেহাই পাইনি দেশের জনসাধারণ। কিন্তু সরকার তাদের দমন করতে শুধুমাত্র সাতক্ষীরা জেলায় অভিযান চালিয়েছে। বাকি ৬৩ জেলায় কোন অভিযান চালায়নি। সরকারের কাছে আমাদের প্রশ্ন, সাতক্ষীরা জেলাই কি বাংলাদেশ? কেন বাকি জেলাগুলোতে অভিযান চালানো হয়নি।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সন্ত্রাস করে তারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে গিয়ে নিজেরাই দেউলিয়া হয়ে গেছেন। তাই অন্যদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছেন যা আমরা জানতাম না। গণজাগরণ মঞ্চের তরুণরা তাদের অন্যতম। তারা দেশের প্রচলিত আইন ব্যবস্থা পরিবর্তন করে মানবতাবিরোধীদের সবোর্চ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। দেশকে গ্লানিমুক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন তাদের সাহস ও মনোবল দিয়ে, অস্ত্র দিয়ে নয়। তাই বর্তমানে যারা একাত্তরের বিরোধিতা করেছিল তাদের বিচারের জন্য আন্দোলন করেছে তাদেরও সাহস হারাবার কোন কারণ নেই। সফলতা আসবেই। কারণ দেশের জনগণ তোমাদের সঙ্গেই আছে।
ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, আমরা এমন এক খুশির দিনে এসে সমাবেত হয়েছি যখন জামায়াতের বিচার হচ্ছে। অবশ্যই সংগঠন হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধ হবে।
খুশী কবির বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের ৬ দফা দাবি যতদিন পর্যন্ত পূরণ না হবে ততোদিন আমরা রাজপথে থাকব। এই মঞ্চ এসেছে গণজাগরণের মধ্য দিয়ে।
কাবেরী গায়েন বলেন, একটা মহল গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত ছিল কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। যার প্রমাণ কিছুদিন আগে দেশের বিভিন্ন জেলায় গণজাগরণ মঞ্চের রোডমার্চ। এতে দেশের জনগণ গণজাগরণ মঞ্চকে ব্যাপক সাড়া দিয়েছিল।

1 Comment

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা বিমানসেনা July 21, 2017 at 2:40 am

গন জাগরন মঞ্চেরই নয়, এই দাবী সকল বাংগালীর, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলের। বংগবন্ধু ঐ দলকে নিষিদ্ধ করেছিলেন কিন্তু এক সামরিক স্বৈর শাসক তার ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে এবং তার পাকিস্তানী বসদের পরামর্শে আবার সেই জামাতকে রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছিলেন। তিনি নাকি মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন।

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)