Sunday, September 24, 2017
Banner Top
কি ছিল সেই বাকশাল? : সাঈদুর রহমান (সাঈদ)
Banner Content

সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ একদলীয় শাসন এর প্রেক্ষাপট :
বাংলাদেশ। নিজস্ব স্বকীয়তা, স্বাধীন স্বত্তা ও পতাকা অর্জনের প্রাথমিক অবস্থায় নানা প্রতিকুলতার মুখোমুখী হতে হয় শিশু বাংলাদেশ ও তার অভিভাবক সরকারকে। সেই সকল সমস্যার মধ্যে ছিল তথাকথিত সর্বহারা পাটির স্বসস্ত্র আনাগোনা, সদ্য সৃষ্ট বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীদের নানা ধরনের অপকর্ম এবং একদল অবৈধ বেনামী অস্ত্রধারী বিপ্লবীদের বিবিধ ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম। তারা ঐসব কার্যক্রমকে সমাজতান্ত্রিক কার্যক্রম আখ্যা করে প্রচারনা চালাতে থাকে। তাদের ঐ তথাকথিক বিপ্লবী কর্মসূচীর প্রতি ৭১ এর পরাজিত শক্তিসমূহের সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক ইন্দন ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকে যার প্রেক্ষাপট দেশ এক অস্থিরতার চরম পর্যায়ে নিপতিত হয়। সদ্য স্বাধীন দেশের আইন শৃংখলা বাহিনীর শক্তি ও সামর্থ এমন পর্যায়ে ছিল না যে তারা ঐ অস্ত্রধারীদের মুখোমুখী হয়ে দেশে শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দেশের শান্তি ও সামাজিক সৌহার্দ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সরকার গঠন করে একটি আধা সামরিক শান্তিরক্ষী বাহিনী, নাম দেয়া হয় জাতীয় রক্ষী বাহিনী যে বাহিনী নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে কিছুটা সাফল্যের মুখ দেখতে থাকে; অস্ত্রধারীরা হতে থাকে বন্দী কিংবা অস্ত্রাঘাতে বরন করতে থাকে অপ-মৃত্যু। অস্ত্রধারীরা উপায় না দেখে চলে যায় আন্ডারগ্রাউন্ডে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, রাজনৈতিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রত্যয়ে ও জনকল্যান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার পরিকল্পনায় বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান দেশে প্রবর্তন করেন একদলীয়, অন্য কথায় সর্বদলীয়, শাসন ব্যবস্থা, যার নাম দিয়েছিলেন বাংলাদেশ কৃষক, শ্রমিক, আওয়ামী লীগ, সংক্ষেপে বাকশাল।
আমাদের অনেক বুদ্ধিজীবি এবং স্বার্থবাদী রাজনীতিবিদ ১৯৭৫ সনে বংগবন্ধুর একদলীয় শাসন (বাকশাল) প্রবর্তনের জন্য বংগবন্ধুকে সমালোচনা করে থাকেন; এমনকি কেহ কেহ তাঁকে স্বৈরাচারী বলতেও দ্বিধা করেন না। কিন্তু তারা কি আসলেই জানেন বাকশাল কি, কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে গনতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রামী বংগবন্ধুকে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হয়েছিল?
১৯৪৭ সনে ভারত বিভক্তির পর বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯ এর গনআন্দোলন এবং ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি নানাবিধ সংগ্রাম ও রক্তস্রোতে অবগাহনের প্রাপ্ত ফলশ্রুতি আমার প্রিয় বাংলাদেশ। এই রাজনৈতিক খরশ্রোতের মাঝেই উদয় হয়েছিল এক মহান দেশ প্রেমিকের, এক মহান যোদ্ধার, যিনি জেল জুলুম, অত্যাচারে ভীত ছিলেন না, ভয় করতেন না শাসক বর্গের রক্তচক্ষুকে, তিনি ছিলেন বংগবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, জাতীর পিতা, সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ বাংগালী শেখ মুজিবুর রহমান। আজীবন সংগ্রাম ও আন্দোলন করে, যাবতীয় ত্যাগ তীতিক্ষাকে উপেক্ষা করে, ৩০ লক্ষ শহীদ ও ৩ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পাকিস্তানী শাসন ও শোষনের হাত থেকে বাংগালীকে এনে দিয়েছিলেন একটি স্বতন্ত্র জাতিস্বত্ত্বা, বাংগালী জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে পরিচিতি এনে দিয়েছিলেন এই বংগবন্ধু শেখ মুজিব, জাতির পিতা শেখ মুজিব।
বংগবন্ধু শেখ মুজিবের অবদানকে সবাই স্বীকার করেন কেবল কিছু পাকিস্তানী মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক দলের মতাদর্শে বিশ্বাসীরা ছাড়া। ঐ গ্রুপের সমর্থকেরা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে স্বীকার করে না, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বাস করেনি, এমনকি এখনও স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনা। তাদের অনেকেই ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হেরেমে, কেহবা রাজাকার আল-বদর হিসেবে করেছে পাক আর্মির স্বসস্ত্র সহযোগীতা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা। তারা আজও তাদের সেই মানসিকতাকে পরিবর্তন করতে পারেনি, পারেনি বাস্তবতাকে উপলব্ধি ও গ্রহন করতে এবং সেই কারনেই আজও সেই ৭১ এর বর্বর হায়েনাদেরকেই হিতাকাংখী বন্ধু হিসেবে সালাম করে চলেছে।
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও যুদ্ধের ইতিহাস এক বিপ্লবের ইতিহাস যে ইতিহাস আমাদের নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না অথচ তা জানা একান্তই প্রয়োজন। যদি নতুন প্রজন্মকে সে ইতিহাস আমরা প্রথম থেকেই জানাতে পারতাম তবে অবশ্যই আজ সেই ৭১ এর পাক বাহিনীর আশ্রিতা ও দোষরেরা আমাদের দেশের শাসন ক্ষমতায় আরোহনের স্বপ্ন দেখতে পারতো না। এখন আসি বংগবন্ধু প্রনীত ‘বাকশাল’ সম্পর্কে একটু আলোকপাত করার জন্য।
বংগবন্ধুর বাকশাল কি আসলেই একদলীয় ব্যবস্থা ছিল নাকি সর্বদলীয় এ নিয়েই বিতর্ক। অনেকেই মনে করেন এবং এখনও প্রচার করে বেড়াচ্ছেন ঐ ব্যবস্থা ছিল এক দলীয় স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা যার মাধ্যমে গনতন্ত্রের মানষপুত্র, সংগ্রামী বংগবন্ধু তাঁর ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিলেন। কিছু রাজনীতিকেরা তাদের ফায়দা হাসিলের জন্য অথবা বংগবন্ধুর অবদানকে খাটো করার জন্য আজও সেই ব্যবস্থার সমালোচনা করে যাচ্ছেন। তাদের অনেকেই জানেন না বাকশাল কি আর যারা জানেন তারাও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে না জানার ভান করছেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, ঐসব সমালোচনাকারীরা যদি বাকশাল সম্পর্কে বিশদভাবে জানতেন এবং ঐ ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষন করে দেখতেন তবে “বাকশালের” সমালোচনা করার পরিবর্তে তার প্রসংসাই করতেন। আর যারা জানেন, যারা বাকশাল পদ্ধতি প্রবর্তনের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যেও অনেকেই এখন না জানার ভান করে যাচ্ছেন।
আমি রাজনীতির সাথে কখনও জড়িত ছিলাম না, এমন কি এখনও নই। বাকশাল পদ্ধতি প্রবর্তনের সময় এমন এক সংস্থায় চাকুরী করতাম যেখানে রাজনৈতিক আলোচনা করাও চাকুরী বিধির পরিপন্থী ছিল। ঐ সময়ই চাকুরী করার পাশাপাশি রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাকোত্তর পরীক্ষার্থী ছিলাম। লেখাপড়া এবং ব্যক্তিগত আগ্রহের কারনে আমি বাকশালের মেনিফেষ্টো পড়েছিলাম এবং বারবার পড়েছিলাম। ঐ ব্যবস্থা সম্পর্কে সুধীজনের পক্ষে কিংবা বিপক্ষের লেখাও অধ্যয়নের সু্যোগ পেয়েছিলাম যে কারনে বাকশাল পদ্ধতির উপর আমার আন্তরিক ভক্তি ও স্রদ্ধা জন্মেছিল। সেই অর্জিত ধ্যান ধারনার উপর ভিত্তি করে ঐ শাসন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত না লিখে বিদগ্ধজনের ভ্রান্ত ধারনা মোচনের জন্য এবং নব প্রজন্মের জ্ঞাতার্থে একটু সংক্ষেপে আলোচন করব।
বাকশাল সম্পর্কে আলোচনায় যাবার আগে বর্তমান বহুদলীয় গনতন্ত্রের প্রচলিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটু আলোচনা করতে চাই। বর্তমান বহুদলীয় গনতান্ত্রিক পন্থায় গঠিত সরকারের নীতি অনুযায়ী সরকারী দল থেকে কোন বিল সংসদে উত্থাপিত হলে সবাই সেই বিলের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য। আবার বিরোধী দল থেকে উত্থাপিত বিলের বিরোধীতা করতেও বাধ্য অন্যথায় হারাতে হবে দলীয় পদ, পদবী এবং সুবিধাদী।
কিন্তু সেই বাকশাল কিংবা একদলীয় সংসদে বিরোধী দল বলতে কিছুই ছিল না। সেই একদলীয় সংসদে কোন সাংসদ যে কোনো জনকল্যনমূলক বিল উত্থাপন করলে তার পক্ষে/বিপক্ষে আলোচনা করার দ্বার ছিল সকলের জন্য উন্মুক্ত। সেই ব্যবস্থায় সকলের উন্মুক্ত আলোচনা/সমালোচনা ও বিশ্লেষনের পর সেই বিল প্রত্যক্ষ ভোটে যাওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। যেহেতু ঐ ব্যবস্থায় ভোটের সময় কোন দলীয় প্রভাব থাকবে না ,সেই হেতু যেকোনো সংসদ সদস্যের অধিকার ছিল ঐ বিলের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে ভোট দেবার। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোট লাভে সক্ষম হলে সে বিল আইনে পরিনত হতো। কোন সদস্য বিপক্ষে ভোট দিলেও তার সদস্যপদ বাতিল কিংবা দলীয় উচ্চ পর্যায় থেকে রক্তচক্ষু প্রদর্শনের বিধান ছিল না। প্রত্যেক সদস্যের অধিকার ছিল পক্ষে/বিপক্ষে ভোট দেয়ার। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হলে সে বিল আইনে পরিনত হতো। অথচ বর্তমানে প্রচলিত বহুদলীয় গনতন্ত্রে সংসদে কোন সদস্যের কি অধিকার আছে তার দলের আনীত বিলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার? নেই, একেবারেই নেই। সরকারী দল থেকে বিল এলে তার পক্ষে অবশ্যই ভোট দিতে হবে, অন্যথায় সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে কিংবা দলীয় প্রধানের রক্তচক্ষু দেখতে হবে। সুতরাং এখানে বাকশাল পদ্ধতির সমালোচনাকারীদের কাছে জানতে চাই, কোন ব্যবস্থা বেশী গনতান্ত্রিক, আজকের বহুদলীয় গনতন্ত্র নাকি সেই হারিয়ে যাওয়া একদলীয়, বাকশালী শাসন পদ্ধতি?
নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচন করতে গেলে আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে সদ্য স্বাধীন যুদ্ধার্জিত একটা দেশের জন্য ঐ বাকশালী ব্যবস্থা ছিল একান্তই প্রয়োজনীয়। কারন আমাদের সাধারন নাগরিকের মধ্যে তখনও গনতান্ত্রিক ধ্যান ধারনা ও শিক্ষার অগ্রগতি ছিল একেবারেই পিছিয়ে। তাই বংগবন্ধু, জাতির পিতা শেখ মুজিবর রহমান যে অস্থায়ী (২০ বছরের জন্য) একদলীয় শাসন ব্যবস্থা, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা সংক্ষেপে বাকশাল প্রবর্তন করেছিলেন তা ছিল আমাদের দেশের জন্য, রাজনীতির জন্য, অর্থনীতির জন্য একান্তই প্রয়োজনীয় এবং অনন্য।যদি সেই ব্যবস্থা নিয়ে বংগবন্ধু এগিয়ে যেতে পারতেন তবে আজকের অবস্থানে, বিশ্বের কাছে উন্ননয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ, অনেক আগেই পৌছে যেত কিন্তু দেশের শত্রু কিংবা সেই শত্রুদের বান্ধবেরা নানা ধরনের আন্দোলন, এমনকি স্বসস্ত্র আন্দোলনেও ঝাপিয়ে পড়ে সব স্তিমিত করে দিয়েযে ক্ষতি করেছে তা অপূরনীয়। ঐ অরাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বংগবন্ধুর শত্রুরাও সাহস পেয়েছিল তার এবং তার পরিবারের দিকে অস্ত্র তাক করতে। সেদিন আমরা যা কিছু হারিয়েছিলাম সেই ক্ষতি, অপূরনীয়। সেই ক্ষতি ও ক্ষত কি পেরেছি পেরেছি আমরা পূরুন করতে কিংবা পারবো কি কোনো দিন? ১৯৭১ কিংবা ৭২ সনে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি আর আজ তা ১৬ কোটি এবং আবাদী জমির পরিমান হয়েছে অনেকাংশে সংকুচিত। স্বাধীনতা লাভের পূর্ব মূহুর্তেও বিশ্বের এই ক্ষুদ্র জনবসতিতে ছিল খাদ্যের অভাব, ছিল সার্বক্ষনিক দুর্ভিক্ষ। আর সেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল, খাদ্য আমদানীর পরিবর্তে খাদ্য রপ্তানীতে সক্ষম এই বাংলাদেশ এবং যে খাদ্য উতপাদনের বিপ্লব শুরু হয়েছিল ১৯৭৪ সনেই। আমাদের স্মরনে থাকার কথা সবুজ বিপ্লবে সাড়া দিয়ে আমাদের জাতীয় সংসদ ভবনের চতুর্দিকেও ১৯৭৪ সনে ধানের চাষ করা হয়েছিল এবং সেই বছরই আমাদের জাতীয় খাদ্য উতপাদন ছিল অনেক বেশী। আর আজকের বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল আখ্যায়িত করা হয় এবং যদি বংগবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে এবং ২১ বছরের সামরিক শাসন আমাদের উপর চেপে না থাকতো তবে আমার এই বাংলাদেশ আরও ২০/২৫ বছর আগেই এই বর্তমান অবস্থানে এসে যেতো। তবুও আজ এই ভেবেই তৃপ্তি পাই যে বাংলার জনগন আজ এগিয়ে চলেছে এবং পেছনের বড় কারন আমরা ১৯৭১ সনে দখলদার হায়েনাদেরকে পরাস্ত করে দেশের পতাকা ও স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলাম। তাই আজও বল চলেছি, “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক:
সাঈদুর রহমান (সাঈদ)
মুক্তিযোদ্ধা, বিমানসেনা (অবঃ)
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

 

2 Comments

No Name July 30, 2017 at 2:37 pm

But why the Awami League did not let the nation know ?

একজন মুক্তিযোদ্ধা August 3, 2017 at 4:53 am

But why the Awami League did not let the nation know ? The BAKSAL manifest was open to the public

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)