Tuesday, August 22, 2017
Banner Top
Banner Content

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে: একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকার জন্যে মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের দুই গেরিলা যোদ্ধা হারুন হাবীব এবং আব্দুল হান্নান খানকে বিশেষ সম্মান জানালো ‘আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’। সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মহাসচিব, সাংবাদিক-লেখক হারুন হাবীব এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারি আব্দুল হান্নান খান ব্যক্তিগত সফরে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।

নিউইয়র্ক : বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারি আব্দুল হান্নান খানকে ‘আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’র বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করছেন ক্লাবের কর্মকর্তাগণ। ছবি-এনআরবি নিউজ।

‘এই দুই মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান জানানোর মধ্যদিয়ে প্রকারান্তরে বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যে চেষ্টা চলছে, তাকেই উৎসাহিত করা হলো’-মন্তব্য নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত ‘আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’র সভাপতি লাবলু আনসারের। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরের সর্বকনিষ্ঠ গেরিলাদের অন্যতম ছিলেন লাবলু আনসার।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে সোচ্চার করতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পাশাপাশি ২০০৬ সাল থেকে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের ভ’মিকা অনস্বীকার্য। এই বিচার বন্ধ করতে দেশ-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র চলেছে। এখনও চলছে। এ অবস্থায় সরকারকে তার নির্বাচনী অঙ্গিকারের প্রতি অবিচল রাখতে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম সার্বক্ষণিকভাবে সোচ্চার রয়েছে। ফোরামের এমন মনোভাবের প্রতি প্রবাসেও জনমত তৈরীর নানা প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে। একইসাথে সাংবাদিক হারুন হাবীবের কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যেগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের কথা স্থান পেয়েছে অবিকৃতভাবে। অপরদিকে, নানা ্প্রতিবন্ধকতা সত্বেও ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’র তদন্ত প্রক্রিয়া বিন্দুমাত্র থেমে থাকেনি। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের ব্যাপারে এবং এ গুরু দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করছে পুলিশের মহাপরিদর্শকের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত প্রধান সমন্বয়কারি আব্দুল হান্নান খানের নেতৃত্বাধীন তদন্ত সংস্থা।
নিউইয়র্কে প্রেসক্লাবের অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে গত ২১ জুলাই এই দুই মুক্তিযোদ্ধাকে ‘সম্মাননা ক্রেস্ট’ প্রদান করা হয়। জ্যাকসন হাইটসে মেজবান পার্টি হলের এ অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে প্রবাসের কবি, লেখক, সাংবাদিক, রাজনীতিক ছাড়াও ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদের হাসানের পাশে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারী, রাশেদ আহমেদ, সহীদুল ইসলাম, এনামুল হক এবং সুব্রত বিশ্বাস। প্রবাসের শক্তিমান কলামিস্ট ও কবি ফকির ইলিয়াস, কবি তুলি ইলিয়াস, মোশারফ হোসেন, মোহাম্মদ মিশু, প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মুহম্মদ উল্লাহ, লেখক-সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস, প্রাবন্ধিক ফেরদৌস সাজেদীন, কলামিস্ট ও যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি শিতাংশু গুহও ছিলেন অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে। সাংবাদিক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাঈদ-উর রব, সাপ্তাহিক বর্ণমালার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বন্ধনের সম্পাদক সঞ্জীবন কুমার, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ, বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার সাবেক সভাপতি এমাদ চৌধুরী, প্রখ্যাত সমাজকর্মী ও সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া, গণজাগরণমঞ্চের অন্যতম সংগঠক ও সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরন এবং মিনহাজ আহমেদ সাম্মু, সাপ্তাহিক ঠিকানার বিশেষ প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেম, এটিএন বাংলার যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি কানু দত্ত, বাংলা ভিষণের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি আজিমউদ্দিন অভি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়–য়া, নিউইয়র্কস্থ বিটিভির মহাপরিচালক মীর ই ওয়াজিদ শিবলীও ছিলেন অতিথির মধ্যে। প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক রিজু মোহাম্মদের তত্ত্বাবধানে এ মহতি অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশী আইনজীবীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি’র প্রেসিডেন্ট মোর্শেদা জামান, জাতিসংঘ উইমেন গিল্ডের অন্যতম সংগঠক রানু ফেরদৌস এবং নারী পত্রিকার সম্পাদক পপি চৌধুরী। প্রবাসের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের উচ্ছ্বল উপস্থিতির এ অনুষ্ঠানে মিডিয়ার সাথে কম্যুনিটির চমৎকার একটি বন্ধনের স্পষ্ট প্রকাশ ঘটে।
সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণের পর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও প্রধান সম্পাদক হারুন হাবীব বলেন, ‘একাত্তরের ঘাতকেরা বিচারে সোপর্দ না হলে বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতো না। আর এ অসম্ভব কাজটি সম্পাদনের জন্যে সারা বাংলাদেশের মানুষই সংগঠিত ছিলেন। আমরা শুধুমাত্র মানুষের আকাঙ্খার পরিপূরক বক্তব্য উপস্থাপন করেছি, রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐ বিচারের ব্যাপারে অবিচল থাকার ক্ষেত্র তৈরী করেছি। আসলে এর সকল কৃতিত্ব আপামর জনতার।’
শারীরিক অসুস্থতার জন্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারায় পরবর্তীতে জ্যামাইকায় ‘পানাহার রেস্টুরেন্টে’ সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানে আব্দুল হান্নান খান সেই ক্রেস্ট গ্রহণের পর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন পূরণের পথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ভীষণ প্রয়োজন ছিল। মুক্তিযুদ্ধের এতগুলো বছর পরও সেই বিচার সম্ভব হচ্ছে জাতিরজনকের যোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা মনোভাবের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অনুরোধ-উপরোধ কোনকিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি এই বিচার প্রক্রিয়া থেকে।’
হারুন হাবীব এবং আব্দুল হান্নান খান গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতি। ‘প্রবাসে শত প্রতিক’লতার মধ্যেও বাংলাদেশ নিয়ে সাংবাদিকদের এই যে মমত্ববোধ, তা দেশপ্রেমের ইতিহাসে এক অনন্য স্থান জুড়ে থাকবে’-উল্লেখ করেন উভয়ে।

 

 

1 Comment

একজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক July 30, 2017 at 4:49 pm

এখানে আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধা/গেরিলা যোদ্ধা আছেন কিন্তু তাদের কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব কিংবা আত্মীয় স্বজন নেই তাই তারা ‘বিশেষ সন্মান’ পান না। আমরা কি এমন একটা …ক্লাব গঠন করতে পারিনা যেখান থেকে আত্মীয়তার উর্ধে উঠে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সন্মান দেখাতে পারি? আমরা সকলেই জানি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম এই দুনিয়া থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবার পথে এবং আর কোনোদিনই কেহ আর বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা হতে পারবেন না।

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)