Tuesday, August 15, 2017
Banner Top

শব্দ নিউজ প্রতিবেদন : কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতৃত্বহীনতার কারণে যেন একটি পোড়ো বাড়িতে পরিনত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম চৌধুরীর বছরের বেশী ভাগ সময় বাংলাদেশে থাকার কারণে বলে অভিযোগ এসেছে। এতে ওই দুইজনের ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হলেও তৃণমূলে দলের ভিত দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। উপরন্তু তৃণমূলের মতামতের তোয়াক্কা না করে এক ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার উপর দল চলছে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিজেদের ব্যবসা-বানিজ্য, দেন-দরবার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ। আর নিউইয়র্ক-এ কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। পদ-পদবী নিয়েও মাঝে মাঝে কাজিয়া-ফ্যাশাদ লেগে থাকে। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র কমিটি নিয়ে দলটিতে রয়েছে কোন্দল।
আওয়ামী লীগের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিরে থাকায় দলটি কয়েক বলয়ে ভাগ হয়ে যায়। এক পক্ষে নিজাম চৌধুর, সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ,লুৎফুল করিম, চন্দন দত্ত, আইরীন পারভীন, আব্দুল হাসিব মামুন, এ্যাড. শাহ বখতিয়ার, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, জাকারিয়া চৌধুরী, আব্দুর রহিম বাদশা,তৈয়বুর রহমান টনি প্রমূখ।
তাঁদের বিরোধীতায় অন্য পক্ষে আছেন ড. সিদ্দিকুর রহমান,আকতার হুসেন, সৈয়দ বসারত আলী, ডা, মাসুদুর রহমান, মোহাম্মদ সোলেয়মান আলী, ফারুক হোসেন প্রমূখ। এই গ্রুপে ড.সিদ্দিকুর রহমান ক্ষমতার একক বলয় সৃষ্টি করে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছেন। তার ঠিক-বেঠিক সিন্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তার উপর নেমে আসে দুঃখ আর শাস্তির কালো ছায়া। কথায় কথায় তিনি তার অধনস্থ নেতা-কর্মীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের ভয় দেখান। তাই দ্বন্দ্ব-বিভেদের কারণে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ঘরে যদি আগুন জ্বলে তবে তার দায়-দায়িত্ব সিদ্দিকুরকেই নিতে হবে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন।
এছাড়া দলের এই নাজুক অবস্থার জন্য নিজাম চৌধুর, সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদগংদেরও এর দায়ভার নিতে হবে বলে জানান কয়েকজন পরীক্ষিত নেতা। তবে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ আজাদ তার পদ ধরে রাখতে সুবিধাবাদী অবস্থানে আছেন। তিনি কারো আগেও নেই, পিছেও নেই। দুই গ্রুপের সাথেই ঘনিষ্ঠতা রক্ষা করে চলছেন।
আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি না হলে দলটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাড়াবে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
একটি সুত্র থেকে জানা যায়, বিদ্রোহী এবং পদবঞ্চিত নেতা- কর্মীদের দাবীর প্রেক্ষিতে ‘যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সম্মেলন কবে হবে’- এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়। সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ। আগামী সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আসবেন,তখনই সম্মেলন করা হবে বলে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দেশে গিয়ে আব্দুস সোবহান গোলাপ বিষয়টি শেখ হাসিনাকে জানাবেন এবং তার সম্মতি থাকলেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আব্দুস সোবহানের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে আসাকে কেন্দ্র করে যতই ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা হোক না কেন, সাধারণ কর্মীদের ধারনা, বিভিন্ন বিষয়ে যে নোংরা ও ভয়াবহ মতভেদ চলছে তাতে দল নাজুক অবস্থার দিকে চলে যাচেছ । অনিবার্য হচ্ছে নৈরাজ্য, একে অপরের প্রতি কমে যাচ্ছে ভালবাসা ও শ্রদ্ধা।

3 Comments

সাঈদ, মুক্তিযোদ্ধা বিমানসেনা August 3, 2017 at 1:51 pm

“আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিজেদের ব্যবসা-বানিজ্য, দেন-দরবার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ। আর নিউইয়র্ক-এ কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি। পদ-পদবী নিয়েও মাঝে মাঝে কাজিয়া-ফ্যাশাদ লেগে থাকে। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র কমিটি নিয়ে দলটিতে রয়েছে কোন্দল” আমি আমার এক মন্তব্যে একবার লিখেছিলাম যে সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলাদেশে; থাকেন ব্যাংক ব্যবসা নিয়ে আর সভাপতি থাকে দেশের বিদ্যুতের খাম্বার ঠিকাদারী নিয়ে। কিন্তু আমার সাথে সামনা সামনি কোনো এক স্থানে দেখা হলে সভাপতি প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, “নিজাম চৌধুরীর বিষয়ে ওই মন্তব্য সত্য কিন্তু আমার বিষয়ে নয়। আমি বাংলাদেশে কোনো ব্যবসায়ে জড়িত নই।” এখন এই লেখাটা পড়লে কি আমার মন্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়? নিজাম চৌধুরীকে আমি চিনি অনেক আগে থেকেই যখন তিনি নিউ ইয়র্কে টেক্সি চালাতেন। এখনও লং আইল্যান্ডেই থাকেন। তিনি কি করে বাংলাদেশে অনেকগুলো ব্যাংকের মালিক তা কি কারও জানতে বাকী আছে? তিনি বছরের ৯ মাস থাকেন দেশে, যদিও পরিবার লং আইল্যান্ডেই থাকেন। মাঝে মধ্যে আসেন আবার চলে যান। সুতরাং এই প্রবন্ধের প্রতিবেদনকে একান্তই সঠিক বলেই মনে হয়।

Sitangshu Guha August 5, 2017 at 3:20 pm

”পোড়ো বাড়ী’ না ‘হন্টেড হাউজ’?

‘পোড়ো বাড়ীর’ ইংরেজী সম্ভবত: ‘হন্টেড হাউজ’। নিউইয়র্ক বাংলায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে ‘পোড়ো বাড়ী’-র সাথে তুলনা করে একটি নিবন্ধ লিখে এ সপ্তাহে যথেষ্ট আলোড়ন তুলেছে। শুনলাম, নিউইয়র্কের একটি সাপ্তাহিকও এটি নিউজ হয়েছে। সেটি এখনো দেখিনি। আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক-কর্মী হিসাবে দল নিয়ে কোন সংবাদ বেরুলে তা পড়ি। এই নিউজটি পড়ে একটি গল্প মনে এলো: আইয়ুব খানের আমলে এক বিডি মেম্বারকে ষাঁড় গুতো মারে। পত্রিকা তখন হেডিং করেছিলো, ‘চিনিলো কেমনে?’ নিউইয়র্ক বাংলায় নিউজটি পরে আমার মনেও প্রশ্ন জাগলো, ‘মিডিয়া বুঝিলো কেমনে?’

এ বছর ফেব্রূয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ একটি আলোড়ন তুলেছিলো। সম্ভবত: সাপ্তাহিক বর্ণমালায় তা প্রকাশিত হয়? ঐসময় তারা এক সাংবাদিক সম্মেলনে সবাইকে গরুর মাংস পরিবেশন করে। তিনজন হিন্দু সাংবাদিক এতে ক্ষুন্ন হন এবং বেরিয়ে যান। বর্ণমালা সম্পাদক মাহ্ফুযুর রহমান এবং চ্যানেল আই-র রাশেদ আহমদ এর প্রতিবাদ করেন। এই ঘটনা ঢাকা পর্যন্ত গড়ায় এবং তারা এটা সামাল দেন। উল্লেখ্য, দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সম্মেলনে অগুনিত মানুষ হয় এবং সেখানে গরুর মাংস দেয়া হয়না। প্রয়াত রতন বড়ুয়া পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েই বলেছিলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন’। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং একজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট তো বিবৃতি দিয়েই হিন্দু-সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নেমে পড়েন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এতটা করুন অবস্থা অতীতে কখনো ছিলো না। এই সংগঠনটি এখন দল নয়, একটি ক্লাব। এখানে মিউজিক্যাল চেয়ারের মত প্রতিনিয়ত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পরিবর্তন হচ্ছে। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যেমন বলেছেন, হাইব্রীড ও কাউয়াদের কথা, এই ক্লাবে এখন এদের সংখ্যা বেশি। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এই ত্যাগী নেতারা দলে থাকলেও ক্লাবে নেই? ক্লাবের সদস্য মাত্র কয়েকজন, তারা প্রতিনিয়ত ‘নেত্রী ও জয়্মামার’ নাম ভাঙিয়ে সাধারণ কর্মীদের ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছেন। ওনাদের ইচ্ছামাফিক নেয়া সকল সিদ্ধান্তই নাকি মামার অনুমোদিত? ওনারাই বলতে পারেন, লতিফ সিদ্দিকীর চাকুরী খাইছি; দীপুমনি-খুকুমনির চাকুরিও খাবো। আমরা সাধারণ কর্মীরা গল্প শুনি, দেশ নাকি ৩জনে চালায়—জননেত্রী শেখ হাসিনা, জয় এবং আমাদের সভাপতি?

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীর অভাব নাই, তারা দেশের জন্যে, নেত্রীর জন্যে, নৌকার জন্যে উৎসর্গীকৃত প্রাণ। কিন্তু নৌকার মাঝি ঠিকমত নৌকা বাইতে না পারলে নৌকা ডুবির সম্ভবনা থাকে। ডঃ আব্দুস সোহবান গোলাপ এখন নিউইয়র্কে। নেত্রী সেপ্টেম্বরে আমেরিকা আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নৌকাকে গতিশীল করতে ডঃ গোলাপ দেশে গিয়ে সঠিক পরামর্শ দেবেন বলে আশা করি। নুতন কমিটি ব্যাতিত এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়? শুনছি ওবায়দুল কাদের আসছেন, এলে দয়া করে কর্মীদের কথা শুনবেন আশা করি। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।
৫ আগষ্ট ২০১৬।

    সাঈদূর রহমান, লং আইল্যান্ড থেকে August 8, 2017 at 5:44 am

    দাদা, আমার সাালুট এবং তা একজন সামরিক সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধার সেলুট।

Leave a Comment

বিজ্ঞাপন

সব খবর (সব প্রকাশিত)