Saturday, September 23, 2017
Banner Top
Banner Content

শিতাংশু গুহ : ‘পোড়ো বাড়ীর’ ইংরেজী সম্ভবত: ‘হন্টেড হাউজ’। নিউইয়র্ক বাংলায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগকে ‘পোড়ো বাড়ী’-র সাথে তুলনা করে একটি নিবন্ধ লিখে এ সপ্তাহে যথেষ্ট আলোড়ন তুলেছে। শুনলাম, নিউইয়র্কের একটি সাপ্তাহিকও এটি নিউজ হয়েছে। সেটি এখনো দেখিনি। আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক-কর্মী হিসাবে দল নিয়ে কোন সংবাদ বেরুলে তা পড়ি। এই নিউজটি পড়ে একটি গল্প মনে এলো: আইয়ুব খানের আমলে এক বিডি মেম্বারকে ষাঁড় গুতো মারে। পত্রিকা তখন হেডিং করেছিলো, ‘চিনিলো কেমনে?’ নিউইয়র্ক বাংলায় নিউজটি পরে আমার মনেও প্রশ্ন জাগলো, ‘মিডিয়া বুঝিলো কেমনে?’

এ বছর ফেব্রূয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ একটি আলোড়ন তুলেছিলো। সম্ভবত: সাপ্তাহিক বর্ণমালায় তা প্রকাশিত হয়? ঐসময় তারা এক সাংবাদিক সম্মেলনে সবাইকে গরুর মাংস পরিবেশন করে। তিনজন হিন্দু সাংবাদিক এতে ক্ষুন্ন হন এবং বেরিয়ে যান। বর্ণমালা সম্পাদক মাহ্ফুযুর রহমান এবং চ্যানেল আই-র রাশেদ আহমদ এর প্রতিবাদ করেন। এই ঘটনা ঢাকা পর্যন্ত গড়ায় এবং তারা এটা সামাল দেন। উল্লেখ্য, দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সম্মেলনে অগুনিত মানুষ হয় এবং সেখানে গরুর মাংস দেয়া হয়না। প্রয়াত রতন বড়ুয়া পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েই বলেছিলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠন’। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং একজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট তো বিবৃতি দিয়েই হিন্দু-সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নেমে পড়েন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এতটা করুন অবস্থা অতীতে কখনো ছিলো না। এই সংগঠনটি এখন দল নয়, একটি ক্লাব। এখানে মিউজিক্যাল চেয়ারের মত প্রতিনিয়ত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পরিবর্তন হচ্ছে। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যেমন বলেছেন, হাইব্রীড ও কাউয়াদের কথা, এই ক্লাবে এখন এদের সংখ্যা বেশি। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এই ত্যাগী নেতারা দলে থাকলেও ক্লাবে নেই? ক্লাবের সদস্য মাত্র কয়েকজন, তারা প্রতিনিয়ত ‘নেত্রী ও জয়্মামার’ নাম ভাঙিয়ে সাধারণ কর্মীদের ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছেন। ওনাদের ইচ্ছামাফিক নেয়া সকল সিদ্ধান্তই নাকি মামার অনুমোদিত? ওনারাই বলতে পারেন, লতিফ সিদ্দিকীর চাকুরী খাইছি; দীপুমনি-খুকুমনির চাকুরিও খাবো। আমরা সাধারণ কর্মীরা গল্প শুনি, দেশ নাকি ৩জনে চালায়—জননেত্রী শেখ হাসিনা, জয় এবং আমাদের সভাপতি?

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীর অভাব নাই, তারা দেশের জন্যে, নেত্রীর জন্যে, নৌকার জন্যে উৎসর্গীকৃত প্রাণ। কিন্তু নৌকার মাঝি ঠিকমত নৌকা বাইতে না পারলে নৌকা ডুবির সম্ভবনা থাকে। ডঃ আব্দুস সোহবান গোলাপ এখন নিউইয়র্কে। নেত্রী সেপ্টেম্বরে আমেরিকা আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নৌকাকে গতিশীল করতে ডঃ গোলাপ দেশে গিয়ে সঠিক পরামর্শ দেবেন বলে আশা করি। নুতন কমিটি ব্যাতিত এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়? শুনছি ওবায়দুল কাদের আসছেন, এলে দয়া করে কর্মীদের কথা শুনবেন আশা করি। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

*****
শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)