Sunday, September 24, 2017
Banner Top
Banner Content

 

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)’র সম্ভবনায় তরুণ অফিসার মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন সরকার (২৬) নামাজে জানাজা ১৪ আগষ্ট সোমবার বাদ মাগরিব জ্যামাইকা মুসিলিম সেন্টার (জেএমসি)-এ অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট) নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবর স্থানে তার মরদেহ দাফন করার কথা। উল্লেখ্য, পারিবারিক অশান্তির জের হিসেবে তিনি গত রোববার (১৩ আগষ্ট) দুপুরে নিজ ঘরে নিজের উপর গুলি চালিয়ে আতœহত্যা করেন। এতে ঘটনাস্থালেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এনওয়াইপিডি-তে ৮ শতাধিক বাংলাদেশী-আমেরিকান অফিসার কর্মরত রয়েছেন। আর বাংলাদেশী পুলিশ অফিসারদের মধ্যে এটিই প্রথম আত্মহত্যার ঘটনা।
হেমায়েত উদ্দীন সরকার (৩২) স্ত্রী ও তিন বছরের একমাত্র শিশু সন্তান আর মা-বাবা, ভাইদের নিয়ে নিউইয়র্কের জ্যামাইকার আলবেন এলাকায় বসবাস করছিলেন। তারা দুই ভাই ও দুই বোন ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ী সিরাজগঞ্জ। হেমায়েত উদ্দীন সরকার এন.ওয়াই.পি.ডি’র ট্রাফিক বিভাগের সদস্য হিসেবে প্রথমে ৫ বছর কাজ করেছেন। পরে অফিসার হিসেবে এনওয়াইপিডি-তে যোগদান করেন এবং ৫ বছর ধরে সততার সাথে দায়িত্ব পালল করে চলছিলেন।
হেমায়েত উদ্দীন সরকারের নামাজে জানাজা সোমবার বাদ মাগরিব জেএমসি-তে অনুষ্ঠিত হয়। বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত এই নামাজে ইমামতি করেন জেএমসি’র পেশ ইমাম ও খতিব আলহাজ মওালানা মির্জা আবু জাফর বেগ। জানাজা নামাজের আগে জেএসি পরিচালনা কমিটির সভাপতি খাজা মিজান হাসান, সেক্রেটারী মনজুর আহমেদ চৌধুরী, এনওয়াইপিডি’র বাংলাদেশী পুলিশ অফিসার এসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ান কবীর, এনওয়াইপিডি’র ইমাম এবং নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল শামীম আহসানের পক্ষে তার প্রতনিধি আসিফ আহমেদ উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
এদিকে পুলিশ অফিসার হেমায়েত উদ্দীন সরকারের নামাজে জানাজা উপলক্ষ্যে সিটির পুলিশ বিভাগ জেএমসি এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া সহ অফিসিয়ালি গার্ড অব অনার্ড প্রদান করে। এসময় পুলিশ বিভাগের কমান্ডার ও পদস্থ কর্মকর্তাসহ এনওয়াইপিডি’র বিপুল সংখ্যক অফিসার জেএমসি সংলগ্ন ১৬৮ স্ট্রীটে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অবস্থান নেয়। এছাড়াও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও এনওয়াইপিডি-তে কর্মরত বাংলাদেশী-আমেরিকান অফিসারগণ সহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা নামাজ শেষে এনওয়াইপিডি’র পক্ষ থেকে গার্ড প্রদান করে হেমায়েত উদ্দীন সরকারের মরদেহ বহনকারী কফিন গাড়ীতে তুলে দেয়া হয়। এসময় মরহুমের পরিবারের সদস্যরা কফিনের সামনে ছিলেন এবং সেসময় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
মরহুমের পারিবারিক সিদ্ধান্তে মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট) নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবর স্থানে (বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব কবরস্থান) তার মরদেহ দাফন করার কথা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে হেমায়েত উদ্দীনের স্ত্রীর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য ছিল। হেমায়েত উদ্দীনের পরিবারের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, গত রোববার তিনি ঘরেই ছিলেন। এর আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে নিজ বাসার বেসমেন্টে তিনি নিজেই নিজেকে গুলি করেন। গুলির শব্দে স্ত্রী সহ অনেকেই ভীত হয়ে পড়েন। বেইসমেন্টে গেলে দেখা যায় ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। এই অবস্থায় পুলিশ ডাকা হলে তারা দরজা ভেঙ্গে ভেতরে গিয়ে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে।
হেমায়েত হোসেন সরকার মাত্র কয়েক মাস আগে বাড়ীটি কিনেছিলেন। এর আগে এন.ওয়াই.পি.ডি’র ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে তিনি অফিসার হিসেবে পুলিশে যোগদেন। ২০০২ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। এন.ওয়াই.পি.ডি’র অফিসার হিসেবে ব্রুকলীনের হাউজিং-২ শাখায় তিনি কাজ করতেন।
আরো উল্লেখ্য, পুলিশ অফিসার হেমায়ত সরকার বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফার্মাসিস্ট সৈয়দ টিপু সুলতানের ভাগ্নি জামাই এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কার্যকরী সদস্য খোরশেদ আলমের শ্যালক।

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)