Sunday, September 24, 2017
Banner Top
Banner Content

নিউইয়র্ক : ‘সকলের জন্যে গৃহ চাই’ স্লোগান নিউইয়র্ক সিটিতে। ছবি-এনআরবি নিউজ।

এনআরবি নিউজ, ১৯ আগস্ট : নিউইয়র্কের মত লসএঞ্জেলেস সিটিতেও স্বল্প আয়ের লোকজন খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। বিশেষ করে, বাসা ভাড়া অকল্পনীয় হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মানুষই অস্বাস্থ্যকর এবং বসবাসের অনুপযোগী বাসায় দিনাতিপাতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হাউজিং এ্যান্ড আরবান এফেয়ার্স পরিচালিত এক গবেষণায় উদ্বেগজনক এ তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। লসএঞ্জেলেস সিটির স্বল্প আয় তথা গরিবদের অর্ধেকেরও বেশী অর্থাৎ ৫ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ প্রতি মাসে অর্জিত অর্থের অর্ধেকই ব্যয় করছেন বাড়ি ভাড়া বাবদ। ২০১৫ সালে এ গবেষণা চালানো হয়েছে। এদিকে, নিউইয়র্ক সিটির স্বল্প আয়ের তথা গরিব মানুষদের ৪৪% বাড়ি ভাড়া সংকটে রয়েছেন। এই সিটির ১৮ লক্ষাধিক স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে ভাড়া সংক্রান্ত সমস্যায় রয়েছেন ৮ লাখ ১৫ হাজার। একইভাবে মায়ামী, ফিনিক্স এবং রিভারসাইডের স্বল্প আয়ের অধিকাংশই একই পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন বলে এই জরিপে উদঘাটিত হয়েছে।
বাড়িভাড়া সংকটের সুযোগে অনেক ল্যান্ডলর্ড বেআইনীভাবে রুমের ভেতরে রুম, লিভিং রুমকে বেডরুম, এমনকি কীচেনকেও পার্টটাইম বেডরুমে পরিনথ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এসব বেআইনী ও অমানবিক কাজে লিপ্তদের ভিকটিম হচ্ছেন ইমিগ্র্যান্টরা। যুক্তরাষ্ট্রে নবাগত হওয়া এবং অনেকের ইমিগ্রেশনে স্ট্যাটাসের সমস্যা থাকায় কেউ এহেন অপকর্মে লিপ্ত ল্যান্ডলর্ডদের বিরুদ্ধে যেতে চান না।
বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির ফলে লসএঞ্জেলেস সিটিতে গৃহহারার সংখ্যা চরমে উঠেছে। গত বছর তা বেড়েছে ২৩%। এবং এ সংখ্যা হচ্ছে ৫৮ হাজার করে প্রতি কাউন্টিতে। এ বছরের জানুংয়ারিতে সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এ মাসের শুরুতে রিয়েল এস্টেট ফার্ম ‘যিলো’ কর্তৃক প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৫% বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আরো ২০০০ মানুষ যোগ হচ্ছে গৃহহারাদের তালিকায়। আগামী বছর এই সিটিতে ৪.৫% গৃহহারা বাড়বে বলেও উল্লেখ রয়েছে এই সংস্থার প্রতিবেদনে। এই সিটির মতো সিয়াটল এবং নিউইয়র্কেও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতি রেখে ইনকাম না বাড়ায় অনেক মানুষ নাজুক অবস্থায় দিনাতিপাত করতে করতে জীবনের হাল ছেড়ে দিয়ে গৃহহারাদের তালিকাভুক্ত হচ্ছেন। নিউইয়র্ক সিটিতে স্বল্প আয়ের লোকজনের জন্যে সিটির হাউজিং-ভর্তুকির ব্যবস্থা থাকলেও তা দিয়ে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। অর্থাৎ আরো অনেক বাড়ি দরকার।
হাউজিং এ্যান্ড আরবান এফেয়ার্স-এ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয়ভিত্তিক সংকটে রয়েছেন ৬৬% আমেরিকান। আর এ সমস্যার উদ্ভব হয়েছে ২০১১ সাল থেকে। তবে, ভাড়া সংকটের শুরু ২০০৭ সালে। ক্রমান্বয়ে তা প্রকট আকার ধারণ করেছে ৪ বছর পর। শারীরিকভাবে কাজে অক্ষম, প্রবীন এবং শিশু রয়েছে-এমন পরিবারই নাজুক অবস্থায় সবচেয়ে বেশী বলে উল্লেখ করেছে ঐ গবেষণা প্রতিবেদনে।
আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০১৩ এবং ২০১৫ সালের মধ্যে অনেক মানুষের ইনকাম বাড়লেও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির সাথে তা সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এমনকি, যেসব ল্যান্ডলর্ড গরিব মানুষদের বিপরীতে সরকার থেকে ভতর্ুুকি পাচ্ছেন , তারাও ভেতরে ভেতরে ভাড়া বাড়িয়েছেন।

 

0 Comments

Leave a Comment

সব খবর (সব প্রকাশিত)